তারেক রহমানকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন নাছের; আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ
এক-এগারো সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ডিজিএফআই-এর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছের।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ কথা বলেন।
এর আগে, এদিন জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এরপর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিনসহ কয়েজন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতে আসামির ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, '১/১১ এর সময় ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীদের অত্যাচার করেছিল। সেই টিমের সদস্য ছিলেন আজকের আফজাল নাছের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছিলেন। সেই টিমের সদস্য ছিলেন এই আসামি নাছের। এছাড়া তারা অন্যান্য নেতাদেরকেও অত্যাচার করেন।'
তিনি বলেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিভিন্ন মামলা দিয়ে পঙ্গু করেছিলেন। তিনি এক সময় ইউনাইটেড হাসিপাতালে চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। এই ব্যক্তি ওই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তার প্ররোচণায় খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিতে পারেননি।'
তিনি আরও বলেন, 'তিনি বোনাফাইড অফেন্ডার। হাসিনার সহযোগী। জুলাই আন্দোলনে হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন দমনেও কাজ করেছিলেন তিনি।'
এই আইনজীবী বলেন, 'ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করছেন তিনি। মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন পুলিশের।'
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, 'এই মামলায় আসামির নাম ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। হাসিনার পক্ষে কাজ করলে আসামিকে পুরস্কৃত করার কথা, কিন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।'
তারা বলেন, 'আসামি রুটি রুজির জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে কাজ করেছিলেন। এটা ছাড়া আসামির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আসামির বয়স বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি।'
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় অবস্থান করছিলেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৪০)। এ সময় গ্রেপ্তার আসামি আফজাল নাছেরের নির্দেশে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ জন সন্ত্রাসী আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে ২১ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে আফজাল নাছেরের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
