আগের জেলা প্রশাসককে ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি, কারণ গভমেন্ট আমাদের তো: পরাজিত বিএনপি প্রার্থী
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ (রুমী) বলেছেন, 'আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট আমাদের তো…।'
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদকে বলতে শোনা যায়, গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার এবং আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বড় ব্যবধানে জয়ী হতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নামে, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এ রকম বহু লোককে চিনি আমরা। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখানে আছেন এমন অনেকেরই জন্ম হয়নি।
নির্বাচনকালে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি।
সৈয়দ মেহেদী আহমেদ জানান, ভোট গণনা নিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং তা গ্রহণও করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট অ্যাকসেপ্ট করেছে। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হবো।
বক্তব্যের শেষ দিকে এসে তিনি বলেন, 'আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে ওই আসনে তাঁকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।
