বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, বসতবাড়ি ভাঙচুর-আগুন
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মধুমতি নদীর চরের জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজিব শেখ (২৫) চিংগড়ী গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে।
এ ঘটনায় সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সৌরভ মচন্দপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবক চিতলমারী-পাটগাতি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। এসময় বিশ্বাস পরিবারের লোকজন ওই যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরণের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সন্ধ্যা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেখ পরিবারের সদস্যদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে।
সেই সুযোগে শেখ বাড়িতে হামলা হয়। দুই শতাধিক লোকজন হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫টি বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে এবং পেট্রোল ও পিচ (বিটুমিন) ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। তবে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আনুমানিক ২০-২৫টি বসতঘর পুড়ে গেছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হই।'
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, 'অনেক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রাজিব নামের এক যুবক নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'নিহত রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ফের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
