সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানকে অপমান করার শামিল: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, 'এই জুলাইয়ের কারণেই তো এই নির্বাচন এবং জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আর আমি হয়েছি বিরোধী দলীয় নেতা। জুলাই না এলে কি আমরা এটা হতে পারতাম? তাই আমাদের অবশ্যই জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে ও সম্মান করতে হবে।'
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মসূচি চলাকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আপনারা জানেন, গতকাল আমরা সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। আর সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের আবর্জনা দূর করতে চাই। রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করতে চাই।'
তিনি আরও বলেন, 'মানবিক সংশোধনের জন্য আমাদের আজকের এই অভিযান। আজকের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার মানে হচ্ছে আমার প্রিয় মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে এই বার্তা দেওয়া যে, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ব, যাতে করে আমাদের পরিবেশও সুন্দর থাকবে, আমাদের মনটাও সুন্দর থাকবে। পরিবেশ যখন সুন্দর থাকে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। তখন মানুষ ভালো হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়। আমরা সেই বার্তাটাই মূলত দিতে চাচ্ছি।'
দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, 'আমরা যদি আন্তরিক হই ও নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আজকের এই বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে আমার প্রিয় এলাকাবাসী ও সহকর্মীগণকে বলব, আজ এটা লোক দেখানো নয়, আজ কেবল শুরু। প্রতিদিন ফজরের পরে আমাদের প্রত্যেক ইউনিট সংগঠনকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করতে হবে। এক ঘণ্টা করতে পারলে আরও ভালো। এরপর তারা পরিবারসহ সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজে ছড়িয়ে পড়বে।'
মিরপুর এলাকাকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, আজ থেকে মিরপুর এলাকা একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। এ কাজ করতে আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে আমার দাবি থাকবে— এই এলাকাকে যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা না হয়।'
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। যদি সরকারি দল এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে কথা বলব— কিন্তু ছেড়ে দেব না।'
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
