জামায়াত কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে: কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন আহমদের প্রশ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কি ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, 'যাদের পাসপোর্টে বাংলাদেশি পরিচয় লেখা আছে, তারাই এ দেশের প্রকৃত নাগরিক। যারা সস্তা দামে জান্নাত বিক্রির রাজনীতি করে, যারা মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে—তারা কোনোদিনই এ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।'
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আমরা কারা—জনগণ তা ভালো করেই জানে। আমরা সেই দল, যারা সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই আদর্শের দল।'
শহীদ জিয়াউর রহমান এই দেশকে ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে তুলে 'বাংলাদেশি' পরিচয় দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'সমতল-পাহাড়, সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন চাই না।'
২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছেন ও শহীদ হয়েছেন, তাদের স্বপ্নকে বিএনপি ধারণ করে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জামায়াত আজ নতুন করে স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বয়ান করতে চায়। কিন্তু যারা একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, এ দেশের মা–বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে—তারা কীভাবে আজ স্বাধীনতার ইতিহাসের কথা বলে? নাউজুবিল্লাহ।'
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, জামায়াত বিকৃত ইতিহাসের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করতে চায়। তিনি বলেন, 'ইতিহাস কিন্তু পরিষ্কার—২৫ মার্চের দিনগত রাতে ও ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এ কারণেই ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।'
বক্তব্যের শেষে তিনি কক্সবাজার-০৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, 'জামায়াত কোনো ইসলামিক দল নয়; এটি মওদুদী ইসলাম। ইসলামের লেবাস নিয়ে একটি দল ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর। দলটি এখন দেশকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিতে চায়। বাংলাদেশকে আমরা দিল্লি বা ওয়াশিংটন, কোনো শক্তির তালুকবন্দি হতে দেব না।'
জনসভায় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল প্রধান অতিথির কাছে স্থানীয় বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সরকার যদি উন্নয়নের জন্য মানুষের জমি নেয়, তবে অবশ্যই মালিকের সম্মতি ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। খাস জমি বা পিএফ জমিতে যারা দীর্ঘকাল বসবাস করছেন, তারা সবসময় উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নের নামে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং খাস ও পিএফ জমিতে বসবাসকারীদের আইনি বৈধতা দিতে হবে। আর উচ্ছেদ করতে হলে অবশ্যই আগে পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।'
কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে কাজল বলেন, 'বর্তমান সরকার নানা বিধিনিষেধ ও আইন করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করেছে এবং একচেটিয়া সুবিধা তৈরি করেছে। আমরা চাই পর্যটন শিল্প উন্মুক্ত হোক, বিদেশি বিনিয়োগ আসুক এবং কর্মসংস্থান বাড়ুক। সে লক্ষ্যেই আইন প্রণয়ন করা হবে।' এছাড়া ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র সম্পদের সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং উদ্যোক্তা তৈরি করবে—যারা নিজেরা কাজ করার পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।'
বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই জনসভা চলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত। সভা শুরুর আগে দুপুর ২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে সমবেত হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। জনসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
