নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সড়ক অবরোধ; টিয়ারশেল, জলকামান নিক্ষেপ
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিতে গেলে সরকারি কর্মচারিদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার বিষয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, 'ডিএমপির অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারা অনুযায়ী যমুনার আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। তারপরও সরকারি কর্মচারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নবম পে-স্কেলের দাবিতে যমুনায় অবস্থান নিয়েছে। তাই পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনোভাবেই যমুনার আশপাশে জমায়েত হতে দেওয়া হবে না।'
এর আগে, সকালে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারিরা। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।
মিছিলটি যমুনার দিকে অগ্রসর হলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে। তবুও আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে যান। সেখানে আবারও পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন তারা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যান এবং সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
এক পর্যায়ে পুলিশ যমুনার সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে এবং অন্য একটি অংশকে কাকরাইল মসজিদের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে, রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি মিডিয়া পরিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
এর আগে, গতকাল 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ'-এর ব্যানারে সরকারি কর্মচারীরা আগারগাঁও মোড়ে মানববন্ধন করেন এবং রাস্তা অবরোধ করে বৈষম্যমুক্ত নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান।
