এক বছরে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা: বেতন-বোনাস পরিশোধে আর্থিক সহায়তা চায় বিজিএমইএ
দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য হ্রাস এবং ক্রয়াদেশ (অর্ডার) কমে যাওয়ার কারণে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আরও অনেক কারখানা বর্তমানে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে এই বৃহৎ শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল এসব উদ্বেগ ও সংকট তুলে ধরেন। বিজিএমইএ'র পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, 'আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্ম দিবসের সংখ্যা অনেক কমে আসবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বোনাস এবং অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কারখানাগুলোকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে।'
বিজিএমইএ'র পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, 'এতে করে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো। এ পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সহায়তা না পেলে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদেরকে মজুরি ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করা এবং উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না। এতে করে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।'
বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে বিজিএমইএ নেতারা লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন থাকা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, 'বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় শিল্পটি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৫ এর অক্টোবর-ডিসেম্বর, এই তিন মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।'
