সাভারে বেতন নিয়ে অসন্তোষের জেরে কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ: ২৩ শ্রমিক গ্রেপ্তার
সাভার পৌর এলাকার দিলখুশাবাগে অবস্থিত আজিম গ্রুপের মালিকানাধীন দুটি তৈরি পোশাক কারখানায় বেতন বকেয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ২৩ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টস লিমিটেড ও গ্লোবাল আউটারওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে কারখানা ও এর সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, 'কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের মধ্যে এজাহারনামীয় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।'
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, মূলত বেতন পরিশোধের তারিখ নিয়ে জটিলতা থেকে এই অসন্তোষের সৃষ্টি। তিনি বলেন, 'এর আগে গত ২২ তারিখে কারখানাটিতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। মূলত মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে কারখানাটির শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ সেদিন ব্যাংকিং জটিলতার কারণে সব শ্রমিকের বেতন ঢুকেনি। কয়েকটি ফ্লোরের শ্রমিকদের বেতন মোবাইলে ঢুকলেও বাকিদের না ঢোকায় শ্রমিকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ ২৪ তারিখে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের করবে বলে জানায় এবং ২৪ তারিখে মালিকপক্ষ ক্যাশ টাকা নিয়ে আসে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য। কিন্তু ২৪ তারিখ সকালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করার পাশাপাশি কারখানা ভাংচুর করেন। যদিও সেদিন ভাংচুরের পরেও মালিকপক্ষ বাকি শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দেয়।' শ্রমিকদের ডিসেম্বর মাসের বেতন বকেয়া ছিল বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আজিম গ্রুপের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ভাঙচুরের পাশাপাশি কারখানা থেকে ৯০ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৩০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরের ফলে কারখানার আনুমানিক ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামলার বাদী ও আজিম গ্রুপের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সোহেল রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটির শ্রমিকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
