বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণ দেখতে চায় ইইউ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একইসঙ্গে বলেছে যে, সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক এই ব্লকের মধ্যে সম্পৃক্ততার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ককে শীর্ষ অগ্রাধিকার দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর প্রতিফলন হিসেবে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
তিনি জানান, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে তারা প্রচার চালাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। "আমি মনে করি না কোনো দল 'না' ভোটের পক্ষে যাবে" -বলেন অধ্যাপক ইউনূস।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।"
পিসিএ চুক্তির আলোচনা প্রসঙ্গে পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অধ্যাপক ইউনূস যে 'অসাধারণ ও ব্যাপক' সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইইউ কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। তিনি পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।
জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
