তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ
তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিকস ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিজ সেনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, তুরস্ক থেকে ফল আমদানিতে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছে দুই পক্ষ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন তুরস্ক সফরে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় দুই পক্ষ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে তুরস্কের ফলমূল রপ্তানিকারক সংস্থাগুলোর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এসব তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেবে।
বৈঠকে ইলেকট্রনিকস ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পায়। এ ধরনের বর্জ্য পরিশোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির জন্য তুরস্কে বিশেষায়িত স্থাপনা বা টিএসডিএফ-সংক্রান্ত সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
চামড়া শিল্প নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জানান, পরিবেশগত কারণে তার দেশে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ট্যানারির কার্যক্রম কমেছে। একই সঙ্গে সিন্থেটিক চামড়ার ব্যবহার এবং কাঁচামাল আমদানির প্রবণতা বেড়েছে।
রাষ্ট্রদূত কমসেকের অধীনে আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সামিট ও হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমসেকের মূল সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরবর্তী সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, তুরস্ক দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সিলর এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
