রমজানের আগে কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি
রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার— কারওয়ান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষত ইফতারের উচ্চচাহিদাসম্পন্ন পণ্য—ছোলা, চিনি, খেজুর, শসা, লেবু ও ডালের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্যাকেটজাত চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।
এক হালি করে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; বড় আকারের লেবুর দাম আরও বেশি। শসা কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা এবং বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলা ও রান্নার উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে।
ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা নজমুল হোসেন বলেন, "রমজানের জন্য বেশি দামে ডিম কিনেছি, তবে অতিরিক্ত মুনাফার আশা করছি না।"
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতার কারণে খুচরা দামে চাপ তৈরি হয়।
সেলিম স্টোরের শাজাহান খান বলেন, "আমরা সব পণ্যই বেশি দামে কিনছি, পরিবহন খরচও এড়ানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত লাভের সুযোগ খুব বেশি নেই।"
গত সপ্তাহে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৬০-১০০ টাকা; এখন তা বেড়ে হয়েছে ৮০-১২০ টাকা। কাঁচামরিচ আগে ছিল ১৪০-১৮০ টাকা, এখন ১৮০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান থেকে নিয়মিত বাজারসদাই করা শাহিন আলী বলেন, "রমজান এলেই দাম বাড়ে। এই চাপ আমাদের জন্য খুব কঠিন। সরকারকে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।"
