ইভ্যালিতে 'বিনিয়োগ পরিকল্পনা' বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল যমুনা গ্রুপ
বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালিতে বিনিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা গ্রুপ।
মঙ্গলবার যমুনা গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং, সেলস অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ আলমগীর আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এ তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আলমগীর আলম লেখেন, "সুচিন্তিত পরিকল্পনায় সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা ছাড়া এবং কোন চূড়ান্ত বিনিয়োগের আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং পুনঃপর্যালোচনা ছাড়া কোন ব্যবসায়িক খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করার অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যমুনা গ্রুপ দীর্ঘ সময়ের কষ্টার্জিত অর্থ, সুনাম, মেধা ও সক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে রাজি নয়"।
তিনি আরও লেখেন, "অন্য কোন কোম্পানিতে যমুনা গ্রুপের অর্থ বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত, এখতিয়ার এবং অধিকার শুধুমাত্র যমুনা গ্রুপের একান্ত বিষয়, এটি কারো অনুরোধে ঢেঁকি গেলার বিষয় নয়। অন্য কোন কোম্পানির কোন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যমুনা গ্রুপ কোন দায় অতীতেও নেয় নি, ভবিষ্যতেও নেবে না"।
এর আগে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে আলমগীর আলম ইভ্যালির কাছে তার পাওনা ডেলিভারিগুলোর ভাউচার নাম্বার উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেন।
সেখানে তিনি লেখেন, "আমার নিজেরই যদি হয় এই অবস্থা আমি মানুষকে কি জবাব দেব? আর মিডিয়াতেও বা ইভ্যালির বিষয়ে ইতিবাচক কিছু বলি কী করে? আর যমুনা গ্রুপের হাজার কোটি টাকার ইভ্যালিতে বিনিয়োগ? ঐ বিষয়ে আমাদের কি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তা আপনারা ধরে নিতে পারেন খুব সহজেই"।
গত ২৬ আগস্ট, যমুনা গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মনিকা নাজনীন ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "যমুনা গ্রুপ এখনও বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।"
তিনি বলেন, "আমরা এর আগে ইভ্যালির সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের হাতে এখনও কিছু সময় আছে। আমাদের অডিট এবং একাউন্ট ডিপার্টমেন্টগুলো ইভ্যালির আর্থিক বিবৃতি এবং সম্পর্কিত অন্যান্য নথিগুলো দেখছে। অডিট সম্পন্নের পর আমরা এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেব"।
গ্রাহক ও মার্চেন্টদের ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাত অভিযোগে তদন্তনাধীন ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ যমুনা ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে গত ২৮ জুলাই ঘোষণা করেন ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল।
নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, "দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।"
পরবর্তীতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দুটি ভিন্ন প্রতিবেদনে ইভ্যালি জানায় যে, ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের পাওনার পরিমাণ ৩১১ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের পাওনার পরিমাণ ২০৬ কোটি টাকা।
বিপুল ডিসকাউন্টের লোভ দেখিয়ে ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি অগ্রিম টাকা নিলেও তাদের পণ্য সরবরাহ করেনি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করা অনেক গ্রাহক এখনও পণ্য পাননি। ইভ্যালি যেসব গ্রাহকদের রিফান্ড চেক দিয়েছে, ব্যাংক একাউন্টে টাকা না থাকায় সেগুলোও বাউন্স হচ্ছে।
এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইভ্যালি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি চেয়ে বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে।
এছাড়াও জালিয়াতি বা আত্মসাতের তদন্ত চলমান থাকায় ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
